মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

যশোরের মাছের পোনা

যশোর মাছের পোনার জন্য বিখ্যাত। এখানে চাঁচড়া বাজারে অনেক সংখ্যক হ্যচারীআছে যেখানে প্রচুর পরিমাণ মাছের পোনা উৎপাদিত হয় এবং সারা বাংলাদেশেরবিভিন্ন স্থানের মাছ চাষীরা এখান হতে মাছের চারা পোনা সংগ্রহ বরে থাকে।প্রায় ২০০ বছর আগে চাঁচড়ায় এই মাছ উৎপাদন শুরু করেন স্থানীয় রাজা সতীশ চন্দ্র। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রাজার প্রিয় মাছ ছিল পাবদা। আর চাঁচড়ার বর্মণপাড়ার জেলেদেরকে দিয়ে সর্বপ্রথম এই পাবদা মাছ চাষ শুরু করেন রাজা। দীর্ঘদিন পর চাঁচড়া সবজীবাগের শেখ মহসিন আলী পঞ্চাশের দশকে নদী থেকে রেণু (ডিম) সংগ্রহ করে নার্সারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন শুরু করেন। স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত তিনি এককভাবে পোনা উৎপাদনের কাজ করেছেন। পরবর্তীতে মাছের অব্যাহত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এলাকার বহু মানুষ এ পেশায় যুক্ত হন।

মহসিন আলীর ছেলে শেখ বাহারউদ্দিন ১৯৮২ সালে হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রুই জাতীয় মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হন। বাহউদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত সেনালী মৎস হ্যাচারিই হচ্ছে বাংলাদেশের বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম হ্যাচারি। বাহাউদ্দিনের সফলতা দেখে ১৯৮৩ সালে তার  বড় ভাই শেখ মেজবাউদ্দিন, কারবালার শামসুল ইসলাম হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর চাঁচড়ার মোস্তফা কামাল, সাইফুজ্জামান মজু, ফিরোজ খানসহ আরও অনেকে রেণু উৎপাদনের জন্য হ্যাচারি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন।

চাঁচড়ায় এখন ছোট বড় মিলিয়ে ৫৫টি হ্যাচারী রয়েছে। এ সব হ্যাচারীতে প্রায় ৫০ হাজার কেজি রুই জাতীয় সাদা মাছের ডিম (রেণু) উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩০টি হ্যাচারিতে বছরে ৩০/৩৫ কেজি পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। এই সব হ্যাচারির ডিম নিয়ে প্রায় ২ হাজার নর্সারিতে মাছের পোন উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে এই ব্যবসার সাথে কমপক্ষে ১ লাখ মানুষ জড়িয়ে পড়েছে।